নীলাকাশ টুডেঃ ইসলামে ঈদের প্রবর্তন হয়েছে দ্বিতীয় হিজরির মাঝামাঝি সময়ে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আসেন, তখন দেখেন যে সেখানকার লোকরা বছরে দুদিন (নাইরোজ ও মিহরজান) আনন্দ করে, খেলাধুলা করে।

তিনি বললেন, আল্লাহতায়ালা তোমাদের এ দুদিনের পরিবর্তে আরও বেশি উত্তম ও কল্যাণকর দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আজহা ২. ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ, ১/১৬১)

দুই ঈদের রাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ। ঈদ যেমন আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে, তেমন নিয়ে আসে আল্লাহর নৈকট্যলাভের মহাসুযোগ। ঈদের রাত যেমন আনন্দ-খুশির, ঠিক দুনিয়ার যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গলপ্রাপ্তির রাত জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতলাভের মহাসুযোগপ্রাপ্তির রাত। তাই ঈদের রাত জেগে ইবাদত করার ফজিলত ও গুরুত্ব অনেক।

ঈদের রাতের ইবাদত

আল্লাহতায়ালার জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ঈদের রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে। রাব্বুল আলামীন আমাদের হায়াত দান করেছেন, আমরা ঈদ উপভোগ করার মহাসুযোগ পেয়েছি। নিঃসন্দেহে এটা আমাদের জন্য বড় গনিমত। কেননা ঈদের রাত অনেক বরকতময় ও ফজিলতের রাত।

এই রাতে যারা মনিবের রেজামন্দি হাসিলের নামাজ-কালাম, তেলাওয়াত, জিকির আজকার ও দান-দক্ষিণা করবে রাব্বুল আলামীন তাদের খালি ফেরাবেন না।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত ইবাদতের মাধ্যমে জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

১. যিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত। ২. যিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত)। ৩. ঈদুল আজহার রাত। ৪. ইদুল ফিতরের রাত। ৫. ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি ২/৯৮, হাদিস-১৬৫৬)

বেশি বেশি দোয়া করা

ঈদের রাতে দোয়া ফিরিয়ে দেয়া হয় না। ব্যক্তি জীবনে কতজন কতো রকমের বাঁধা-বিপদ, আশা-আবেগ ও মনের জমানো কথা-ব্যাথা মনে নিয়ে জ্বালা যন্ত্রণা ভুগছি। ঈদের রাতে মনের সেই কথা ও ব্যাথা তুলে ধরি প্রভুর কাছে।

রাব্বুল আলামীন আমাদের কল্যাণকর সবকিছু কবুল করে দেবেন,ইনশাআল্লাহ।

দোয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিতে গিয়ে রাসূল হাদীসে বলেছেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে, সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস -৭৯২৭)

ইবাদতকারীর অন্তর মরবে না

ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কিয়ামতের দিন মরবে না। হযরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে তার অন্তর ওই দিন মরবে না যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে।

তাই এই রাতে সাধ্যানুসারে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, ইস্তিগফার এবং দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা কর্তব্য।

বরকতময় এই রাতে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘুরাঘুরি করার পরিবর্তে এশা এবং ফজরের নামাজ সময়মত জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সঙ্গে অন্যান্য আমলগুলো করা। অন্যান্য আমলগুলো করা সম্ভব না হলেও অন্তত এশা এবং ফজরের নামাজের জামাত ঠিক রাখা।

আরও পড়ুন

সড়কে যানজট, দুঃখ প্রকাশ করে যা বললেন ওবায়দুল কাদের

নীলাকাশ টুডেঃ ঈদুল আজহা উদযাপনে বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যানজটের কারণে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঘরমুখী যাত্রীদের। এ ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার মন্ত্রীর বাসভবনে অনলাইনে ব্রিফিংকালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, লকডাউনসহ বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদে পণ্যবাহী ট্রাক, লরি এবং কাভার্ডভ্যান চলাচল করছে। তাই যানবাহনের চাপ বেশি। যারা ঈদযাত্রায় ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঈদের এ আনন্দ ভ্রমণ যেন কান্নায় রূপ না নেয়। সেজন্য নিজেকে সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রাখতে হবে এবং নিজে ও অন্যকে সতর্ক রাখতে হবে।

‘ঈদের আগের দিন হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ জন্য হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

করোনার এ পরিস্থিতিতে কোনো ভাবেই অসতর্ক হওয়া যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের উচ্চমাত্রার এমন পরিস্থিতিতে অসতর্ক হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন

ঈদ বাজারে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ৩৫

নীলাকাশ টুডেঃ ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি ব্যস্ত বাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।ওই হামলায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬০ জন।

হতাহতরা সবাই আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ওই বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বাগদাদের সাদর শহরের ওয়াহিইলাত বাজারে সোমবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে দেশটির সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হতাহতের মধ্যে নারী আর শিশুও রয়েছে। বোমা বিস্ফোরণের বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ধরে গেছে।

স্থানীয়ভাবে তৈরি আইইডি বোমা দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

বিস্ফোরণের পর আহতরা রক্তাক্ত শরীরে চিৎকার করছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে।

এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএল (আইএসআইএস)। টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা একটি বার্তায় সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের একজন আত্মঘাতী হামলাকারী শরীরে বোমা বেঁধে ভীড়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটায়।