নীলাকাশ টুডেঃ শহরের ইটাগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত. চিত্তরঞ্জন দে এর ছেলে তুলসী দে ও হরিপদ দে টাকা নিয়ে জমি রেজিষ্ট্রি করে না দিয়ে বরং বিভিন্ন লোক মারফত বলে বেড়াচ্ছেন তাদেরকে পলাশপোল মৌজার জেএল নং-৯৪ ও ১৩০৪১ এবং ১৩০৪৩ দাগে ৭.৪০ শতক ও ৯.৪০ শতক জমির ২ টি পৃথক পৃথক দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছি। এছাড়াও তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির অরজিনাল কাগজপত্রদি আটকাইয়া রেখে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়া ঐ জমি রেজিষ্ট্রি করার পায়তারা করছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ওই ঘটনায় তাদের হয়রানি থেকে প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন নিরীহ মনি। বৃহস্পতিবার (১৭/০৬/২০২১) দুপুরে নিউ মার্কেট মোড়স্থ শহীদ স. ম. আলাউদ্দিন চত্ত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে ইটাগাছা (মানিকতলা) গ্রামের মাজেদ গাজীর ছেলে মনিরুল ইসলাম মনি এই দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযুক্তরা টাকার প্রয়োজনে আমাকে গত ১ বছর পূর্বে সাড়ে ১৯ শতক জমি বিক্রয়ের কথা বলেছিল। তখন আমি তাদেরকে ৩ কাঠা জমি নেওয়ার কথা বলেছিলাম। তবে তারা বলেছে সম্পূর্ণ জমি ছাড়া বিক্রয় করবো না। এরপরে আমার পরিচিত ডা. রনজিৎ কুমার রায় এর সাথে উক্ত জমির বিষয়ে আলোচনা করি। আলোচনাঅন্তে ডা. রনজিৎ ১২.৬০ শতক ও আমি ৪.৬০ শতক জমি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করি। অতঃপর তুলসী দে এর সাথে আমাদের সাড়ে ১৯ শতক জমি ৪৯ লক্ষ টাকায় ক্রয়ের মৌখিক চুক্তি হয়। ওই টাকা দিয়ে আমি ও ডা. রনজিৎ মিলে জমি রেজিষ্ট্রি করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

 

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ওই জমির মধ্যে ২.৩০ শতক জমি কম দিয়ে ৪৪ লক্ষ টাকায় আমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। গত ১৩/০৩/২০২১-ইং তারিখে সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ৪০ লক্ষ ও নগদ ৪ লক্ষসহ মোট ৪৪ লক্ষ টাকা (সম্পূর্ণ জমির টাকা) অভিযুক্তরা বুঝিয়া নিয়ে পলাশপোল মৌজার জেএল নং-৯৪ ও ১৩০৪১ দাগে রনজিৎ কুমার রায় এর নামে ১২.৬০ শতক এবং একই মৌজার ১৩০৪৩ দাগে আমার নামে ৪.৬০ শতক জমির পৃথক পৃথক দলিলে স্বাক্ষর করেন। ওইদিন জমি রেজিষ্ট্রি করার সময় রনজিৎ এর নামে ১২.৬০ শতক জমির দলিলটি রেজিষ্ট্রি হয়। তবে ১৩০৪৩ দাগের ৪.৬০ শতক জমি খাস খতিয়ানে অন্তভুক্ত থাকায় রেজিষ্ট্রার আমার নামের দলিলটি রেজিষ্ট্রি করেনি। ওই সময়ে রেজিষ্ট্রার বলেছিল ডিপি খতিয়ান সংশোধন না করলে আমার জমি রেজিষ্ট্রি করা যাবে না। অত:পর রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে চলে আসি আমরা। মনিরুল ইসলাম মনি অভিযোগ করে বলেন, তুলসী দে ও হরিপদ দে আমাকে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই ডিপি খতিয়ান সংশোধন করে রেজিষ্ট্রি করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি মৌখিক চুক্তিতে একটি ল্যাবটপের বিনিময়ে আবারও .৩৫ পয়েন্ট জমি আমাকে লিখে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে হাজির হয়ে পূর্বের স্বাক্ষরকৃত দলিলটি রেজিষ্ট্রি না করে একই টাকার বিনিময়ে (পূর্বের চুক্তি মোতাবেক ৪.৬০ শতক + .৩৫ শতক=৪.৯৫ শতক) নতুন করে ৪.৯৫ শতক জমির দলিলে নিজ নিজ নামের স্বাক্ষর করেন। ওই সময়ে ৪.৯৫ শতক জমি সাব-রেজিষ্ট্রার রেজিষ্ট্রি করতে যেয়ে দেখেন ৩৭০৮ ডিপি খতিয়ানের ১৩০৪৩ দাগের জমি খাস খতিয়ানে অন্তভুক্ত আছে। সেই একই ভুলের জন্য রেজিষ্ট্রার ওই জমি রেজিষ্ট্রি করেননি। আমার সাথে অভিযুক্ত দ্বিতীয়বারও প্রতারণা করল। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্তরা গত ২০/০৪/২০২১ ইং তারিখে আমাকে বিবাদী করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার ডায়েরী নং- ৯৪০। ওই ডায়েরীতে তারা উল্লেখ করেছে আমি তাদের কাছ থেকে ৭.৪০ শতক ও ৯.৪০ শতক জমির ২ টি পৃথক পৃথক দলিলে নিজ নাম স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেছি এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির অরজিনাল কাগজপত্রদি আটকাইয়া রেখে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়া ঐ জমি রেজিষ্ট্রি করার পায়তারা করছি। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আসলে শুধুমাত্র আমার ৪.৬০ শতক জমির স্থলে অভিযুক্তরা ৪.৯৫ শতক জমির দলিলে নিজ নিজ নামের স্বাক্ষর করেন। কিন্তু ডিপি খতিয়ানে সমস্যা থাকায় আমার নামে সম্পাদন করা দলিলটি রেজিষ্ট্রি করেনি সদর সাব-রেজিষ্ট্রার।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা ওই জমির ডিপি খতিয়ান সংশোধনও করছে না। এমনকি আমার জমিও রেজিষ্ট্রি করে দিচ্ছে না। এমতাবস্থায় সাতক্ষীরা পৌরসভায় অভিযুক্তদের বিবাদী করে ১৯/০৫/২০২১-ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলাম আমি। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নৌটিশ জারী করে উভয়ের শুনানীর জন্য ২৪/০৫/২০২১ ইংরেজি তারিখে দিন ধার্য করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে বিবাদীরা ওই দিন হাজির হয়নি। এরপরেও পৌর কর্র্তৃপক্ষ ০৩/০৬/২০২১-ইংরেজি তারিখে পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন। কিন্তু সেদিনও শুনানীতে হাজির হয়নি অভিযুক্তরা। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা পৌরসভার সাপৌ/সাধাঃ শাঃ/অভিযোগ নং-১৩৭/২১ নং স্মারকে সাতক্ষীরা পৌর ০৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু স্বাক্ষরিত ১৫/০৬/২০২১ ইংরেজি তারিখে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনের বিবরণে জানা যায়, বিবাদীপক্ষ পলাশপোল মৌজার এস.এ ১৬৪৫ খতিয়ানে এস.এ ১২৭৫৯ দাগে ১৯.৫০ শতক সম্পত্তি ৪৯ লক্ষ টাকা বাজার দরে বাদীর কাছে বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়। ১৯.৫০ শতক জমি থেকে ২.৩০ শতক জমি কম আছে বিধায় ৪৪ লক্ষ টাকা মূল্য নির্ধারণ হয়। ইহার পরবর্তী ১২.৬০ শতক সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করিয়া দিয়েছেন।

কাগজপত্র ঠিক করিলেও বাকী ৪.৬০ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করিয়া দেন নাই। অথচ জমির সম্পূর্ণ টাকা অগ্রিম নিয়াছেন। এখন জমি রেজিষ্ট্রি করিয়া দেওয়ার কথা বলিলে টালবাহানা করিতেছেন। সুতরাং বিবাদীপক্ষ যাহাতে বাকী জমি রেজিষ্ট্রি করিয়া দেন সেইজন্য বাদী এই দরখস্ত করিয়াছেন। আরও জানা যায়, বিষয়টির দায়িত্বভার আমার উপর অর্পিত হওয়ায় ২৪/০৫/২০২১ ইং তারিখে ও ০৩/০৬/২০২১-ইং তারিখে শুনানীর দিন ধায্য করিয়া উভয়পক্ষকে নোটিশ করি। ২ বার নোটিশ করার স্বত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ কোন তারিখেই হাজির হয় নাই। টাকা লেনদেনের বিষয়টি আমি নিজেই জানি বিধায় বিষয়টির সত্যতা প্রমাণের অপেক্ষা রাখে না। সুতরাং পৌরসভা কার্যালয় (গ্রাম্য আদালত) এর মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাদীপক্ষকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হইল। অভিযুক্তদের হয়রানি থেকে প্রতিকার পেতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।