নীলাকাশ টুডেঃ দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে আজ। এসব ইউপিতে ভোটগ্রহণ হতে পারে নভেম্বরের প্রথমার্ধে।

একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ-৬ ও সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪৫ এর ভোটের তারিখ নির্ধারণ হতে পারে। আজ নির্বাচন কমিশনের ৮৬তম সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। ইসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, এসএসসি পরীক্ষা আগামী ১৪ নভেম্বর শুরু হচ্ছে। ওই পরীক্ষার আগেই দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ করতে চায় ইসি। প্রথম ধাপের চেয়ে দ্বিতীয় ধাপে বেশি সংখ্যক ইউপির তফসিল ঘোষণার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন নির্বাচন আটকে থাকায় নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে দ্রুত ভোট করতে চায় কমিশন।

এ পর্যন্ত প্রথম ধাপে দুই কিস্তিতে দেশের ৩৬৪টি ইউপিতে ভোট হয়েছে। এক ধাপে ভোট অনুষ্ঠানে তফসিল ঘোষণা হলেও করোনার কারণে দুই দফায় তা সম্পন্ন হয়। ২০ জুন ২০৪টি এবং ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্রমতে, কমিশনের ৮৫তম সভায় দ্বিতীয় ধাপের তফসিল চলতি মাসের শেষের দিকে ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভা শেষে কমিশনের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন ইসি সচিব মো. হুমায়ূন কবীর। আজ অনুষ্ঠেয় কমিশন সভার (৮৬তম) এজেন্ডায় দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন, সিরাজগঞ্জ-৬ শূন্য আসনের উপনির্বাচন, মহিলা আসন-৪৫ শূন্য আসনের উপনির্বাচনের বিষয়টি রয়েছে। এ ছাড়া সপ্তম ধাপের পৌরসভা নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনগুলোর তফসিল হতে পারে।

আরও পড়ুন

চাঁদাবাজির মহোৎসব দিনে ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন!

নীলাকাশ টুডেঃ সড়ক -মহাসড়কে নির্বিঘ্নে চলছে পরিবহণ চাঁদাবাজির মহোৎসব। বিভিন্ন বাস কোম্পানি, ব্যক্তি, সংগঠন ও সমিতির নামে টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্টপেজ থেকে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা উঠানো হচ্ছে। রাজধানীতেই চলাচলকারী গণপরিবহণের মধ্যে শুধু বাস থেকেই উঠে অন্তত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা। সেই হিসাবে মাসে এই অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি টাকা।

রুট খরচ, কোম্পানি পরিচালনা, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সার্ভিস চার্জসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের কথা বলে আদায় করা হচ্ছে এই অর্থ। পরিবহণ সেক্টরে এটা জিপি বা চাঁদা হিসাবে পরিচিত। কেবল বাস থেকেই চাঁদা উঠছে, তা নয়। মোটা অঙ্কের চাঁদা উঠানো হয় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লেগুনা, টেম্পোসহ অন্যান্য যানবাহন থেকেও। ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকের নিজস্ব অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানিয়েছেন পত্রিকাটি।

সূত্র জানায়, ঢাকা ও এর আশপাশ জেলায় কাগজে- কলমে তিনশর বেশি রুটে প্রায় ১০ হাজার বাস ও মিনিবাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। তবে বাস্তবে প্রতিদিন চলে সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার বাস। এসব যানবাহন চললেই রুট ও কোম্পানি অনুযায়ী দিনে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের নামে বা বেনামে চলাচল করা বাসের ওই চাঁদা দিতে হয় না। এছাড়া রাজধানীর অন্তত চারটি রুটে এসি বাস চলে। এগুলোর চাঁদা দেওয়ার অঙ্ক অন্যগুলোর তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) মোশাররফ হোসেন মিয়াজী বলেন, সড়ক-মহাসড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এখন থেকে রাস্তায় কেউ চাঁদা তুলতে পারবে না। টার্মিনালগুলোয় সিটি করপোরেশন এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো নিজ নিজ অফিসে বসে নির্ধারিত চাঁদা তুলতে পারবে।

এর বাইরে কেউ চাঁদাবাজি করলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। সূত্রমতে, প্রভাবশালী ছাড়া সাধারণ মালিকদের অন্তত ছয় হাজার গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। গাড়িপ্রতি ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। গাড়িপ্রতি গড়ে ৮৫০ টাকা চাঁদা ধরলেও দিনে ৫০ লাখ টাকা উঠছে।