নীলাকাশ টুডেঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যোগদান করে সাড়া ফেলেছেন মুক্তি রানী ঋষি (৩৫) নামের এক নারী। উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হয়েছেন তিনি।

উপজেলার সদর ও ফান্দাউক ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ঋষি সম্প্রদায়ের পরিবারের বসবাস। তাদেরই একজন মুক্তি রানী। সাধারণত ঋষি জনগোষ্ঠীর মানুষেরা সমাজে সব সময় উপেক্ষিত থাকেন। আর সেই সম্প্রদায়ের এক নারী ক্ষমতাসীন দলের একটি রাজনৈতিক পদে সদস্য হয়েছেন।

মুক্তিই প্রথম কোন নারী যিনি উপজেলা পর্যায়ের ঋষি সম্প্রদায় থেকে এমন রাজনৈতিক নেতৃত্বে এসেছেনে। একজন ঋষি নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়টি এরই মধ্যে এলাকার সাধারণ মানুষদের নজর কেড়েছে। মুক্তি ঋষি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ভাইরাল।

নিজের বাসায় সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালান মুক্তি রানী ঋষি। স্বামী অঞ্জন ঋষি কাজ করেন সেলুনে। পরিবারের অন্য সদস্যরা করেন মুচির কাজ।

নবগঠিত নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সদস্য মুক্তি রানী ঋষি বলেন, আমারা সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ। আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষদের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেই আমারা পিছিয়ে আছি। উৎসাহ আর সুযোগ দিলে আমরাও পারি। আমার শুধু ভোটই দিতাম, কোন নেতৃত্বে আমাদের রাখা হত না। বর্তমান সংসদ সদস্য আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমারাও সমাজের অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের মত এগিয়ে যেতে চাই, দিতে চাই নেতৃত্ব।

নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অসীম কুমার পাল বলেন, কোন সম্প্রদায়ের মানুষ পিছিয়ে থাকবে না। মুক্তি ঋষিরাও এগিয়ে যাবে অন্যান্য সম্প্রদায়ের মত। এমপি মহোদয় ঋষি সম্প্রদায়কে এগিয়ে আনার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ঋষি সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১, নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য বদরুদ্দোজা মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল। কোন একটা সম্প্রদায়কে পিছিয়ে রেখে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নেতৃত্ব হবে যোগ্যতায়, সকল সম্প্রদায়ের জন্য নেতৃত্বের পথ উন্মোক্ত। ঋষিরাও এর বাইরে নয়।