নীলাকাশ টুডেঃ বরগুনার আমতলী পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান ১৪৪ ধারা জারির আদেশ দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, আমতলীর যুবলীগ কর্মী ও আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমানের ভাগনে আবুল কালাম আজাদকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গত শনিবার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৫ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মামলা হয়েছে।

জড়িতদের বিচারের দাবিতে আজ আমতলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশের আয়োজন করে মেয়র মতিয়ারের পক্ষের লোকজন। এদিকে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আসামিদের পক্ষে একই স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। একই স্থানে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের কর্মসূচির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। আমতলীর ইউএনও মোঃ আসাদুজ্জামান ১৪৪ ধারা জারির খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ১৪৪ ধারা বহাল থাকা অবস্থায় সব ধরনের সমাবেশ ও মাইকিং নিষিদ্ধ থাকবে।

 

আরও পড়ুন

নীলাকাশ টুডেঃ সামাজিক মাধ্যমে আলোচিত একজন ইসলামী বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পরও পুলিশ তার কোন হদিস করতে পারেনি। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং পুলিশ ও র্যাবের প্রধানদের বরাবরে চিঠি দিয়ে আদনানকে খুঁজে বের করার দাবি জানানো হয়েছে। আদনানের স্ত্রী বলেছেন, পুলিশ এবং র্যাবের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করার পরও তারা কিছু জানতে পারছেন না। গত বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে আদনান তার দু’জন সহকর্মী, গাড়ি চালক সহ চারজন নিখোঁজ হন।

তাদের বহনকারী গাড়িটিরও কোন খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের স্ত্রী সাবেকুন নাহার মঙ্গলবার ঢাকায় পুলিশ এবং র্যাব সদর দপ্তরে গিয়ে বাহিনী দু’টির প্রধানদের বরাবরে চিঠি জমা দিয়েছেন। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবরেও চিঠি লিখেছেন। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে তিনি সেই চিঠি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। সাবেকুন নাহার বলেছেন, তিনি তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে কিছুই জানতে পারছেন না। সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে চিঠিগুলো লিখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

“চিঠিতে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমি আমার স্বামীকে ফেরত চাই। যদি আমার স্বামী কোন ভুল করে থাকে বা তার যদি কোন অন্যায় থাকে, তারপরওতো আমাকে তথ্য জানাতে হবে যে সে কোথায় আছে। আমার তো এতটুকু জানার অধিকার আছে। কিন্তু আমি কোন কিছু জানতে পারছি না। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর মামলা করার জন্যও তাকে থানায় থানায় ঘুরতে হয়েছে। আদনান রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে নিখোঁজ হন। কিন্তু ঠিক কোথা থেকে নিখোঁজ হয়েছেন – এই প্রশ্ন তুলে ঢাকার মিরপুর এলাকার দু’টি থানায় প্রথমে তাদের জিডিও নেয়া হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ঘটনার পরদিন শুক্রবার নিখোঁজ ঐ ব্যক্তির মা এবং স্ত্রী রংপুরে থানায় গিয়ে দু’টি জিডি করেছিলেন। রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেছেন, ঢাকার কাছাকাছি এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে এখনও ঘটনার কোন সূত্র পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। পুলিশ কর্মকর্তা হোসেন আরও বলেছেন, “সর্বশেষ যোগাযোগ অনুযায়ী তারা ঢাকার গাবতলী পার হয়ে মিরপুর ১১ নম্বরের কাছাকাছি ছিল। সেখান থেকে তার পরিবারের সাথেও কথা হয়েছে। সে বলেছে তারা আর ১০ বা ১৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবে। কিন্তু এরপর থেকেই তারা ডিসকানেক্টেড হয়ে যায়। তাদের আর ট্রেস পাওয়া যায়নি।

 

আরও পড়ুন

ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যা বললেন পরীমনি

নীলাকাশ টুডেঃ ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্তের জন্য কথা বলতে রাজধানীর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে গেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তিনি মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখান থেকে সন্ধ্যার কিছু আগে বের হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয় নিয়ে তিনি বলেছেন, “আপনারা কিভাবে দেখছেন আমি জানি না। আমরা তো মিডিয়ার মানুষ নিজেরা গল্প বানাই। আমি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আসলে আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়নি। আমি নিজে নিজেই এসেছি।” তিনি বলেন, “এখানে এসে আমি মেন্টালি রিফ্রেসড। আমি যে কাজে ফিরব এটা কিন্তু কেউই আমাকে বলেনি।” আমার আশপাশে যারা ছিল তারা আমাকে শ্বান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে”। কিন্তু আমাকে যে কাজে ফিরতে হবে, আমার এই শক্তিটা তারা এতক্ষণে যুগিয়েছেন। অনেকক্ষণ ধরে আমার কাজ নিয়ে কথা বলছে, আমার নরমাল লাইফে আমি কিভাবে ফিরে যাব, আমি এতটা তাদের কাছ থেকে আশা করিনি। তারা এতটা বন্ধুসলভ, আসলে একটা ম্যাজিকের মতো হয়ে গেছে। ডিবি উত্তর বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশীদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হারুন স্যার ম্যাজিকের মতো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে করে ফেলেছেন। ঘুমিয়ে মানুষ জাগে সকালে, কিন্তু সেই সুযোগটা আমি পাইনি। ঘুমানোর আমি টাইম পাইনি। তার আগে এত দ্রুত কাজ হয়ে গেছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমার বিশ্বস আমি সঠিক বিচারটা পাব।