আসন সমঝোতার খবরে জাতীয় পার্টিতে হুলুস্থুল কান্ড!


MD Nuruzzaman প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১১, ২০২৩, ৩:৫০ পূর্বাহ্ন /
আসন সমঝোতার খবরে জাতীয় পার্টিতে হুলুস্থুল কান্ড!

নীলাকাশ টুডে

 

জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতায় জনপ্রিয় ও সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী নেতাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখন এ নিয়েই জাপার শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কার নাম তালিকায় থাকবে, কারা বাদ যাবেন—এ নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে দলটিতে। এরই মধ্যে জাপার পক্ষ থেকে দেওয়া তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যেই জাপাকে কয়টি আসন দেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট হবে। এর আগে আরেকটি বৈঠক হতে পারে।

জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, গত শনিবার রাতেও দলের পক্ষ থেকে কয়েকজন আওয়ামী লীগের একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছি। আরেকটি বৈঠক হতে পারে। রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি হতেও পারে।

 

২০০৮ থেকে তিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অন্যতম রাজনৈতিক মিত্র জাপা। প্রতিবারই সমঝোতার মধ্য দিয়ে আসন বণ্টন হয়েছে এই দুই দলে। এবার বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামী লীগ আসন বণ্টন ইস্যুতে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক থেকে শুরু করে জাপা নেতারাও চান নির্বাচনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাক। এজন্য কেউ দলীয় প্রতীকে আবার কেউ নৌকা নিয়ে নির্বাচনে আগ্রহী।

এবার রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাপার একটি অংশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। এই বিবেচনায় বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে থাকা জাপার চারজন এমপি এবার বাদ যাচ্ছেন। তাদের আসনে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের অনুসারীরা নতুন প্রার্থী দিয়েছেন। এই আসনগুলোও নিশ্চিত করতে চায় জাপা। তা ছাড়া এবার ঢাকা-১, ৬, ৪, ১৭ ও ১৮ আসন নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন জি এম কাদেরপন্থিরা।

ঢাকা-১৭ আসনসহ রংপুর-৩-এ প্রার্থী হয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের। দুই আসনেই এমপি ছিলেন দলের প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তার মৃত্যুর পর রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন ছেলে সাদ এরশাদ। আর ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনে নতুন এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ এ আরাফাত। সূত্র বলছে, এ আসনটি শেষ পর্যন্ত জি এম কাদেরকে না দিয়ে রংপুর-৩ আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। ঢাকা-১৮ আসন স্ত্রী শেরিফা কাদেরকে দেওয়ার পক্ষে জি এম কাদের। ঢাকা-৬ আসনে জাপার প্রার্থী কাজী ফিরোজ রশীদ। এই আসনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। ঢাকা-৪ আসনে আছেন জাপার আবু হোসেন বাবলা।

রওশন এরশাদের ময়মনসিংহ-৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে কাদেরপন্থিরা। এবার এই আসন দখলে নিতে চায় আওয়ামী লীগ। রংপুরে বর্তমান সংসদ সদস্য মসিউর রহমান রাঙ্গা মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এই আসনে জি এম কাদের ছাত্রসমাজের এক নেতাকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

বর্তমানে জাপার এমপি ২৩ জন। দ্বাদশ নির্বাচনে দলটি চায় ৫০ আসন, ৩৫ হলেও খুশি। সূত্র বলছে, ২৮ থেকে ৩০ আসনের বেশি পাচ্ছে না তারা। ফলে এই তালিকায় কার নাম থাকবে এ নিয়ে দলের মধ্য মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, জাতীয় পার্টির একজন কো-চেয়ারম্যানের বাসায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আসন উল্লেখ করে প্রার্থীদের নাম ঠিক করতে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে কারও কারও নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হলে নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এক পর্যায়ে বৈঠক ভেস্তে যায়। এরপর জি এম কাদের নিজে মহাসচিব চুন্নুকে নিয়ে তালিকা করেন। এই তালিকা আওয়ামী লীগের কাছে দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকায় দলের কাদের নাম থাকছে, কারা বাদ যাচ্ছেন—এই তথ্য জি এম কাদের ও চুন্নু ছাড়া কাউকে জানানো হচ্ছে না।

গত শনিবার রাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাপার বৈঠকে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাপার জনপ্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন—এমন আসনগুলোয় ছাড় দেওয়া হতে পারে—এই খবর চাউর হওয়ার পর জাপার অনেক নেতাই বেকায়দায় পড়েছেন। আসন নিশ্চিত করতে কেউ ছুটছেন জি এম কাদেরের বাসায়। কেউ ধরনা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ঘরে।

আওয়ামী লীগ ও জাপা সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় সরকার। সেক্ষেত্রে নিজ এলাকায় শক্তিশালী নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এমন পরিস্থিতিতে এবার মনোনয়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন জাপার অধিকাংশ এমপি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু কালবেলাকে বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই। তারা (আওয়ামী লীগ) আর আমরা আলাদা। যে যার মতো করে নির্বাচন করব। জাতীয় পার্টি যাদের মনোনয়ন দিয়েছে, তাদের মধ্যে ১০০ প্রার্থী ভালো করবে। বাকিগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এমপিদের এলাকামুখী না হওয়া প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব বলেন, যারা এমপি হয়েও নিয়মিত এলাকায় যাননি, সংগঠন করেননি, এবার তারা নির্বাচনী মাঠে গেলে বুঝতে পারবেন। জনসম্পৃক্ততা না থাকলে এর খেসারত তো দিতেই হবে। জাতীয় পার্টির এক কো-চেয়ারম্যান জানান, সরকার যেহেতু নির্বাচন অর্থবহ করতে চায়, তাই যাদের এলাকায় শক্ত ভিত রয়েছে, তাদের আগামী নির্বাচনে প্রার্থী করতে আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় পার্টিকে অনুরোধ করেছে। সেক্ষেত্রে এলাকা বিমুখ নেতাদের ফের এমপি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ।

জানা গেছে, জাপার বর্তমান ২৩ এমপির মধ্যে ৯ জন নিয়মিত এলাকায় সময় দিয়েছেন। গড়ে তুলেছেন নিজস্ব কর্মী বাহিনী। সংগঠনকে নিজ এলাকায় শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন।