নীলাকাশ টুডেঃ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখল করে নেয়ার তিন সপ্তাহ পর নতুন একটি অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান। মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধান করে নতুন এই সরকারের আংশিক মন্ত্রিসভা ঘোষণা করেন তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

এর আগে নতুন সরকার গঠন নিয়ে নানা নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হয়। গত শুক্রবার সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল তালেবান। পরে তা পিছিয়ে শনিবার করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার সরকার গঠন করলো তারা। ওই সময় শোনা গিয়েছিল নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন তালেবানের অন্যতম সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার।

তবে মঙ্গলবার যে মন্ত্রিসভা ঘোষণা করা হয়েছে তাতে বারাদারকে উপপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়া তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুবকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়েছে। আর হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের এই ‍উত্থান কিন্তু আকস্মিক নয়। তিনি তালেবানের শক্তিশালী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ‘রেহবারি শুরা’র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এটিকে অনেকটা একটি সরকারের মন্ত্রিসভার মতো বলা যায়, যেখানে সর্বোচ্চ নেতার অনুমতিক্রমে গ্রুপের সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাসান আখুন্দ। এছাড়া কান্দাহারে জন্ম নেয়া হাসান আখুন্দ তালেবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। গত ২০ বছর ধরে তিনি রেহবারি শুরার প্রধান হিসেবে আছেন। একই সাথে তালেবানের বর্তমান প্রধান মোল্লা হেবাতুল্লাহ’র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

এতদিন বিশ্ব মিডিয়া জুড়ে আফগানিস্তানের পরবর্তী সরকার প্রধান হিসেবে মোল্লা আব্দুল গনি বারাদারের নাম ওঠে আসছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাবুলে অন্তবর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে পরবর্তী তালেবান সরকারের নেতৃত্ব দেবেন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহম্মদ হাসান আখুন্দ তালেবানের সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী বিভাগ ‘রেবারি শুরা’র প্রধান। তিনি গতবার তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত। জাতিসংঘের জঙ্গি তালিকায় তার নাম রয়েছে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের।

আর নতুন সরকারের উপপ্রধান হিসেবে স্থান পেয়েছেন তালেবানের আলোচিত নেতা আব্দুল গনি বারাদার।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তালেবানের প্রধান জাবিউল্লাহ মুজাহিদ।

জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আমরা জানি আমাদের দেশের মানুষ নতুন সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে।

কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সর্বমোট ১৯ জন মন্ত্রী, তিন জন পরিচালক, ৭জন ডেপুটি মন্ত্রী, এবং একজন সেনাপ্রধান ঘোষণা করা হয়।

নতুন সরকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজুদ্দিন হাক্কানি।

তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা ইয়াকুবকে দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তার ডেপুটি হিসেবে থাকবেন মোল্লা আবদুল সালাম হানাফি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন আমির খান মুত্তাকি। উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন আবাস স্টানিকজাই।

দোহা নিউজের খবরে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী শায়েখ আল্লাহ মুনির, গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান আবদুল হক ওয়াতেক, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মোহাম্মদ ইদ্রিস। সেনাবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাসিহ আল দীন।

 

আফগান প্রসঙ্গে কাশ্মীরের সংবাদপত্রগুলোর গলা টিপে হত্যা করল ভারত!

কাশ্মীরের সংবাদপত্রে তালেবান নিয়ে খবর নিষিদ্ধ করেছে সেখানকার ভারতীয় প্রশাসন। এমনকি তালেবান বা আফগানিস্তান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে সরকারি বিজ্ঞাপন মিলবে না বলে সম্পাদকদের সতর্ক করা হয়েছে।

রোববার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট নাগাদ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি যখন দেশ ছাড়েন, কাশ্মীরের সংবাদপত্রগুলো সেই খবর প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশ করেছিল।

পরদিনই তথ্য কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পত্রিকার সম্পাদকদের ডেকে বলে দেওয়া হয়, তালেবান কিংবা আফগানিস্তানের প্রসঙ্গে কোনো খবর যদি তারা প্রকাশ করেন, তা হলে সরকারি বিজ্ঞাপন মিলবে না।

স্থানীয় একটি উর্দু পত্রিকার সম্পাদক বলেন, ‘তথ্য অধিকর্তার দপ্তর থেকে আমাদের ডেকে পাঠানো হয়েছিল। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আফগানিস্তান নিয়ে কোনো কিছু লেখা চলবে না।’

লিখলে সরকারি বিজ্ঞাপন মিলবে না- কাশ্মীরের পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

মুসলিম হিসেবে কাশ্মীরের বিষয়ে কথা বলার অধিকার রয়েছে- তালেবান মুখপাত্রের এমন বক্তব্যও কাশ্মীরের কোনো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি।

এছাড়া কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা সাবেক হুররিয়াত প্রধান সৈয়দ আলি শাহ গিলানির মৃত্যুর খবরও কাশ্মীরের পত্রিকাগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়নি।

সম্পাদকরা জানান, জম্মু- কাশ্মীরের উপ-রাজ্যপাল মনোজ সিনহার মিডিয়া উপদেষ্টা এ নিয়ে বড় খবর না করার জন্যই তাদের বলেছিলেন।

অঘোষিত এসব নির্দেশের মধ্যে সংবাদপত্রগুলোতে তা হলে কী ছাপছে? কাশ্মীরের খবরের কাগজগুলোতে সবচেয়ে বেশি জায়গা মিলছে জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার।

পাশাপাশি কাশ্মীরে খবর প্রকাশের ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। এনকাউন্টারের প্রসঙ্গ এলে পুলিশের বক্তব্যই প্রকাশ করছে সংবাদপত্রগুলো।