কামরান হাবিব – রংপুরঃ

আজ বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের ৬ বছর পূর্তি। করোনা পরিস্থিতি ও লক ডাউনের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় ভাবে মুজিব- ইন্দিরা নগর ও ১১৯ নং বাঁশকাটা বিলুপ্ত ছিটমহল সহ বিভিন্ন স্থানে দিবসটিকে যথাযথ ভাবে স্বরন করা হয়। এমনটাই জানিয়েছেন বিলুপ্ত ছিটমহল উন্নয়ন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কবি গোলাম মতিন রুমী।

২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলাদেশ-ভারতের ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়। সেদিন থেকে দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্বাধীন ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন বাংলাদেশি হিসেবে প্রতিবছর মুক্তির আনন্দে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন লালমনিরহাটের ৫৯টি বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা।

এ উপলক্ষে রবিবার (১ আগস্ট) রাত ১২টা ১ মিনিটে মুজিব- ইন্দিরা নগর ও ১১৯ নং বাঁশকাটা বিলুপ্ত ছিটমহলে কেক কেটে ও জাতীয় সংগীত গেয়ে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বলন করে দিবসটি পালন করেন সেখানকার বাসিন্দারা এমনটা জানিয়েছেন তাঁরা।
দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ বিলুপ্ত ছিটমহল বাসী স্বপ্ন দেখছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ তাদের নিজেদের শক্ত অবস্থান ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতাহার হোসেন এমপি’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলার সবগুলো বিলুপ্ত ছিটমহলে তাদের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ চাহিদার কথা বিবেচনা করে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক। পৌঁছিয়ে দেওয়া হয়েছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ । অপরদিকে কৃষি উৎপাদন ও সম্প্রসারণের লক্ষে বিনামূল্যে সার- বীজ ও কৃষি ঋণ বিতরণ এবং কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ করে তোলা হয়েছে। রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ তৈরি ও বিনোদনের জন্য কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। যার ফলে তারা দীর্ঘ ৬৮ বছর পর বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের দুঃখ কষ্টের অবসানের পাশাপাশি ফিরে পেয়েছেন নাগরিক অধিকার।তবে ছিটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মুজিব-ইন্দিরা নগরের আধুনিকায়নে সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করে সেখানে একটি জাদুঘর ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে একটি মিনি হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। অপরদিকে ছিটবাসীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুজিব- ইন্দিরা নগরের উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাটগ্রামের কৃতি সন্তান সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান। তিনি মুঠোফোনে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ ৬৮ বছরের অবরুদ্ধ ছিটমহল বাসীর দুঃখ কষ্টের অবসান হয়েছে। তাই তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন হতাশ হবার কিছু নেই সরকার আপনাদের জন্য সর্বদাই আন্তরিক।না চাইতেই পেয়ে যাচ্ছেন সবকিছু। করোনা কালীন সময়ে তিনি সবাইকে টিকা নিয়ে মাস্ক পরে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি বিলুপ্ত ছিটবাসীর নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন।

তবে ছিটবাসীর কল্যাণে সরকারের চলমান কর্মসূচি সম্পর্কে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সরকারের সকল দপ্তর বিলুপ্ত ছিটবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং বিশেষ কিছু কর্মসূচি রয়েছে যা করোনা পরিস্থিতির জন্য থেমে আছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।অপরদিকে পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন বাবুল ১১৯ বিলুপ্ত ছিটমহলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাদের দুঃখ কষ্ট কথা শুনেন এবং তাদের পাশে থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। অপরদিকে বিলুপ্ত ছিটবাসীর ভাগ্য উন্নয়ন ও তাদের মাঝে মুক্তিযোদ্ধাদের চেতনায় দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম করে তাদেরকে উৎসাহিত করে আসছেন হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহাগ । এছাড়াও তিনি তাদের পাশে থেকে খোঁজখবর নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে আসছেন। এদিকে ছিটমহল বিনিময়ের ফলে এখানকার মানুষের দ্রুত গতিতে ভাগ্য পরিবর্তন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতাহার হোসেন এমপি বলেন ইতোমধ্যে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, কৃষি ঋণ সহ নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য সম্মত সেনিটেশন ও ভূমিহীনদের মাঝে আবাসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে এবং সরকার সর্বদাই বিলুপ্ত ছিটমহল বাসীর প্রতি আন্তরিক । তাদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। তবে বাঁশকাটা ছিটমহলের বাসীন্দা নজরুল বলেন চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মহীন হয়ে আছে ছিটমহলের অসংখ্য মানুষ। রয়েছে খাদ্য সংকট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ছিটবাসীর প্রতি স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের আন্তরিক মনোভাব কামনা করেন। ছিটমহল বিনিময়ের ৬ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অকল্পনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত হয়েছে । সেখানকার প্রতিটি মানুষকে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানুষের পরিনত করা হচ্ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। চাকরি সহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের ভালো মন্দ দেখাশোনা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। শিক্ষা উদ্যোক্তা মকবুল হোসেন বলেন বিলুপ্ত ছিটবাসীর পিছনে তাকানোর সুযোগ নেই তাদের জন্য অপেক্ষা করছে সুন্দর আলোকিত ভবিষ্যত।