নীলাকাশ টুডেঃ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ৩০ মে ভারতের সীমান্তবর্তী সাত জেলায় লকডাউনের সুপারিশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। ৩১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনো এলাকায় সংক্রমণ পরিস্থিতি খারাপ হলে স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল সার্জন ও জনপ্রতিনিধিরা মিলে পুরো জেলা বা আংশিক এলাকায় ‘লকডাউন’ দিতে পারবেন।

এরপর বেশ কিছু জেলায় স্থানীয় প্রশাসন ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে। ‘লকডাউনের’ বিধিনিষেধ উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। এমন সাতটি জেলায় চলমান লকডাউনের গণবিজ্ঞপ্তির বিধিনিষেধ পর্যালোচনা করেছে প্রথম আলো। এসব বিজ্ঞপ্তিতে গণপরিবহন ও বিপণিবিতান বন্ধ, বাজার খোলা রাখার সময়সহ কিছু নির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু নোয়াখালী জেলার বিধিনিষেধের পাশে কারা এটি বাস্তবায়ন করবে, সেটি সুনির্দিষ্ট করে লেখা রয়েছে।

যেসব এলাকার গণবিজ্ঞপ্তি পর্যালোচনা করা হয়েছে সেগুলো হলো সাতক্ষীরা জেলা, নাটোর সদর ও সিংড়া পৌরসভা, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, নোয়াখালী পৌরসভা ও সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন, নড়াইল সদর পৌরসভার তিনটি এলাকা, নড়াইল সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন ও লোহাগড়া বাজার, জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি পৌরসভা এবং যশোর সদর ও অভয়নগর পৌরসভা।

এই সাত জেলায় ৫ জুন করোনা শনাক্ত হয়েছিল ৩৭৯ জনের। গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৭৩২।

জয়পুরহাটের সদর ও পাঁচবিবি পৌরসভায় করোনা নিয়ন্ত্রণে ৭ জুন থেকে বিধিনিষেধ চলছে। তবে এ সময় এই দুই পৌরসভায় করোনা শনাক্তে পরীক্ষা বাড়েনি। রোগীদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের চিহ্নিত করার (কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং) কাজও জোরদার করা হয়নি। বিধিনিষেধের ফলে আয় হারানো মানুষ সহায়তাও পায়নি।

অথচ ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হলে তা সফল করা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কী কী করতে হবে, তা সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি আগেই ঠিক করে দিয়েছে। গত বছরের জুনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আট বিশেষজ্ঞ মিলে এ বিষয়ে একটি কৌশলপত্র তৈরি করেন। এতে বলা হয়, ‘লকডাউন’ বাস্তবায়ন করতে হলে ১২টি মূলনীতি মানতে হবে।

এসব মূলনীতির মধ্যে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর বাইরে রয়েছে ঝুঁকিবিষয়ক যোগাযোগ, রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা, শনাক্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে (সঙ্গনিরোধ) নেওয়া, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, খাদ্য ও সামাজিক সহায়তা, শতভাগ নাগরিকের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা, সঠিক চিকিৎসা ও মৃত্যু শূন্যে নামিয়ে আনা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি।

লকডাউন’ বাস্তবায়ন করতে হলে ১২টি মূলনীতি মানতে হবে। যদিও তা হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ‘লকডাউনে’ সফলতার উদাহরণ দেশেই।
বর্তমানে যেসব জেলা ও উপজেলায় ‘লকডাউন’ চলছে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মৌলিক কাজগুলো হচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন শুধু ‘লকডাউন’ ঘোষণা করে দায়িত্ব শেষ করেছে। ফলে ওই সব জেলা-উপজেলায় ‘লকডাউনের’ অবস্থা দাঁড়িয়েছে কার্যত নামকাওয়াস্তে। ‘লকডাউন’ ঘোষিত এলাকার সড়ক, বাজারে জনগণের উপস্থিতি আগের মতোই থাকছে। অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কম ক্ষেত্রে।

সব মিলিয়ে সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। কিন্তু যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘লকডাউন’ মানে শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কিছু ক্ষেত্রে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করা না। ‘লকডাউন’ কার্যকর করতে হলে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউন’ ঘোষণা হলেও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো (মেডিকেল কমপোনেন্ট) উপেক্ষিত থাকছে। ফলে ‘লকডাউন’ ফলপ্রসূ হচ্ছে না। করোনা রোগীর পরিবারে বাকিদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, শনাক্ত না করে রোগী রেখে দিলে সংক্রমণ বাড়তেই থাকবে।

আরও পড়ুন

দ্বিতীয় বার ফরাসি ওপেন জিতে ইতিহাস

নীলাকাশ টুডেঃ দু’সেট পিছিয়ে পড়েও গ্রিসের স্টেফানোস চিচিপাসকে হারিয়ে ফরাসি ওপেনের শিরোপা জিতলেন নোভাক জোকোভিচ। রবিবার ম্যাচের ফল জোকোভিচের পক্ষে ৬-৭ (৬-৮), ২-৬, ৬-৩, ৬-২, ৬-৪।

রবিবার রোলাঁ গারোয় পুরুষ এককের ফাইনালে শুরুটা অবশ্য সিৎসিপাস দারুণ করেন। প্রথম দুই সেট জিতে নিতে দেখা যায়।

তবে এরপরই জোকোভিচের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প রয়েছে।
প্রায় সোয়া চার ঘণ্টার লড়াইয়ে ৬-৭(৬-৮), ২-৬, ৬-৩, ৬-২, ৬-৪ গেমে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিযোগিতাটির শিরোপা জেতেন র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর এই তারকা।

এর আগে ফরাসি ওপেনে প্রথম শিরোপাটি জোকোভিচ জিতেছেন ২০১৬ সালে। ক্যারিয়ারে এটি তার ১৯তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়। সর্বোচ্চ মেজর জয়ের তালিকায় তার ওপরে কেবল রাফায়েল নাদাল ও রজার ফেদেরার, দুজনেই জিতেছেন ২০টি করে।

আরও পড়ুন

বিসিএস নন-ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ

নীলাকাশ টুডেঃ ৩৮তম বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পদ স্বল্পতায় ৬ হাজার ১৭৩ জন ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ পাননি বলে জানা গেছে। এদের মধ্য থেকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য ৫ হাজার ৩২ জন কমিশনে আবেদন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ৩৮তম বিসিএসে উর্ত্তীর্ণ হয়েও যারা ক্যাডার পাননি তাদের মধ্যে থেকে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে তৃতীয় দফায় ৭৮০ জনকে প্রথম শ্রেণির নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করেছে সরকারি কর্ম-কমিশন।

বুধবার সরকারি কর্ম-কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফল থেকে এ তথ্য জানা যায়।