নীলাকাশ টুডেঃ

আক্ষরিক অর্থেই উত্তপ্ত হয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। করোনা মহামারির দাপট আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় উত্তাল দেশটি। এরই মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুক্তির দাবিতে দেশটিতে চলছে লাগাতার বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ভবনে আগুনও ধরিয়ে দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের আগুন ধরিয়ে দেওয়া এক ভবন থেকে নিজের দু’বছর বয়সী সন্তানকে বাঁচতে নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন এক তরুণী। সন্তানকে বাঁচাতে মায়ের এই চেষ্টা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে বিশ্বজুড়ে হাজারও মানুষের। ওই ঘটনার ভিডিও নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্যাবক জুমার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভকারীরা দক্ষিণ আফ্রিকার দুরবান শহরের একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই ভবনটিতে দুই বছর বয়সী শিশুকে নিয়ে আটকা পড়েন নালেদি মানয়োনি নামে ২৬ বছর বয়সী এক তরুণী।

আগুন লাগার সময় তারা ভবনটির ১৬ তলায় ছিলেন। আগুন থেকে বাঁচাতে শিশুকন্যাকে ওপর থেকে ছুঁড়ে দেন ওই তরুণী। নিচে থাকা জনতা শিশুকে ধরে ফেলেন। পরে অগ্নিদগ্ধ ভবন থেকে বের হতে সক্ষম হন ওই তরুণী।

ওই ঘটনার ভিডিও নেটমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই ওই তরুণীর সাহসিকতা আর উপস্থিত বুদ্ধির প্রশংসা করেছেন।

আরও পড়ুন

মাথায় বাঘের কামড়ের পরও যেভাবে বেঁচে গেলেন যুবক!

নীলাকাশ টুডেঃ এক সঙ্গে দুই বাঘ আক্রমণ করেছিল তাকে। এমনকি মাথাও কামড়ে ধরেছিল তার। নিজের দুই সঙ্গীকে হারালেও অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছেন এক যুবক।

ভারতের উত্তর প্রদেশের পিলভিত শহরে এই ঘটনা ঘটে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইনডিপেডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

বিকাশ কুমার নামে ২৩ বছর বয়সী ওই যুবক জানান, পিলভিত শহরের কাছে ঘন জঙ্গলের পাশ দিয়ে তিনি আর তার দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন।

এ সময় রাস্তায় বাঘগুলোকে দেখে মোটরসাইকেল চালক ভয় পেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তারা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়লে বাঘ তাদের আক্রমণ করে।

বাঘগুলো মুহূর্তের মধ্যেই সনু কুমার (৩৩) আর কানধাই লাল (৩৫) নামের দুই যুবককে আক্রমণ করে মেরে ফেলে।

এ সময় মোটরসাইকেলের যাত্রীর আসনে থাকা বিকাশের মাথাতেও বাঘ কামড় বসায়। কিন্তু মাথায় হেলমেট থাকায় আঘাত থেকে বেঁচে যান বিকাশ। এরপর দৌঁড়ে একটা গাছে উঠে প্রাণ বাঁচান তিনি।

সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বিকাশ বলেন, ওই রাতের অভিজ্ঞতা আমি কখনোই ভুলবো না।

তিনি জানান, বাঘগুলো আক্রমণ করার সময় ওরা চিৎকার করছিলেন। সনুকে আমার সামনেই মেরে ফেলে। আমি ভীষণ ভয় পেলেও গাছে উঠার সাহস সঞ্চয় করেছিলাম। আমি গাছে উঠে একদম নড়াচড়া করছিলাম না। শুধু চোখ বন্ধ করে সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করছিলাম। আমি নিশ্চিত জানতাম আমার খোঁজ পেলে আমাকেও শেষ করে দিত ওরা। ওরা (বাঘ) গাছে চড়তেও জানে।

সারারাত ধরে গর্জন করতে করতে বাঘ তাকে খুঁজছিল বলে জানান বিকাশ। সকালে সাহায্য আসার আগ পর্যন্ত গাছেই কাটিয়ে দেন তিনি।

বিকাশ জানান, ওই রাস্তা ধরে না যাওয়ার জন্য স্থানীয়রা তাদের সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার তাড়া থাকায় সে কথায় কান দেননি তারা।

আরও পড়ুন

অতিরিক্ত মদপানে ৯৩ হাজার মানুষের মৃত্যু

নীলাকাশ টুডেঃ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে মাত্রাতিরিক্ত মদপানে ৯৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, এর আগে এক বছরে মাদকের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে এত মৃত্যু ঘটেনি।

সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্র্রোলের (সিডিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় মৃত্যুর এই সংখ্যা ২১ হাজার বেশি। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত মদপানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭২ হাজার ১৫১ জন।

সিডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্রাতিরিক্ত মাদক গ্রহণের কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৩ হাজার ৩৩১ জন মারা গেছে। ১৯৯৯ সাল থেকে দেশটিতে মাদকের ভয়াবহতা শুরুর পর ৯ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মাদকের ব্যবহার বৃদ্ধির পেছনে করোনাভাইরাসকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, মহামারির কারণে সৃষ্ট হতাশা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরে শুধু ফেন্টানিলের (অপিওয়েড) মাত্রাধিক্যের কারণে মৃত্যু হয়েছে ৬৯ হাজার ৭১০ জনের। এছাড়া মৃত্যু বড়ার পেছনে মেটাফিটামিন ও কোকেইন ব্যবহারেরও দায় আছে।

ফেন্টানিল শ্রেণির ওষুধ সাধারণত ব্যথার উপশমে ব্যবহার করা হয়। তবে মাদক হিসেবেও ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এর আগের বছরে ফেন্টানিলের মাত্রাধিক্যে মৃত্যু হয় ৫০ হাজার ৯৬৩ জনের। আর ১৯৯৯ সাল থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে এবং এর বাইরে অবৈধভাবে মাত্রাধিক ফেন্টানিল গ্রহণ করে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের।
সূত্র: এএফপি

আরও পড়ুন

করোনায় দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু

নীলাকাশ টুডেঃ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ২৭৮ জনের মৃত্যু হলো।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ২৩৬ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪ জনে।

এ নিয়ে দেশে টানা ১৯ দিন করোনায় আক্রান্ত হয়ে শতাধিক ব্যক্তির মৃত্যু দেখল বাংলাদেশ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৯৪১টি। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ২৩ শতাংশ।

গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৩৯৫ জন, এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ ৯ লাখ ৫ হাজার ৮০৭ জন।